মা বলতেন তোরা তো জন্মেছিস স্বাধীন দেশে কত রক্ত আর আত্নত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তোমরা তো কিছুই দেখ নি। সত্যিই আমি কিছুই দেখিনি সুধু গল্প শুনেছি।

আমি অনেক আগ্রহী হয়ে জানতে চাইতাম। আর মা বলতেন আমি শুনতাম সেই যুদ্ধের কাহিনী।  উৎকণ্ঠ হয়ে শুধু শুনে যেতাম। যখন ভয়ে সংকচিত হয়ে যেতাম মা বুঝতে পারতেন তখন মা বলতেন আজ থাক। কাল আবার বলব। এভাবে ছোটবেলা মায়ের কাছ থেকে শোনা মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, বুদ্ধিজীবীদের কথা, স্বাধীনতার কথা। যতই শুনতাম ততই অবাক হতাম । কিভাবে বেইমানি করেছে এই দেশেই জন্ম নেয়ে কিছু মানুষ। আবার এই দেশেই জন্ম নিয়েছে  বীর মুক্তি যোদ্ধারা। কিভাবে নিজের জীবন দেশের মানূষের জন্য নিঃশ্বার্থ ভাবে বিলিয়ে দিয়েছে নিজের জীবন।

আজ ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।দেশের সেই সকল সূর্য সন্তানদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। ১৯৭১ সালের  আজকের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহীনি নিশ্চিত পরাজয় জেনে এই দেশ কে মেধা শুন্য করার জন্য । এই দেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করে ছিলো। বিজয়ী বাংগালী জাতি যাতে আর কোন দিন মাথা তুলে না দাড়াতে পারে সেটাই ছিলো তাদের এক মাত্র লক্ষ ও উদ্দ্যেশ্য। আর তাতে  উৎসাহিত করেছিল, এদেশের কিছু দালাল আল বদর আল সামস ও তাদের দোসর রাজাকার।  সত্যিই দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত যদি ওই সকল বুদ্ধিজীবীরা বেচে থাকতেন। ১৪ ই ডিসেম্বর এই হত্যাকান্ড ছিলো পৃথীবির সবছেয়ে ন্যাক্কার জনক ঘটনা। ঐ দিন আসলে কত জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যাকরা হয়েছিল তার সঠিক কোন পরীসংখ্যান কারো জানা নেই। এই বর্বরচিত ঘটনা দেখে সেদিন পৃথীবির মানূষ স্তম্ভিত হয়েছিল।পাকিস্থানী বাহীনি বিদ্ধিজীবীদের হত্যাকরে যে কোথায় কোথায় ফেলে রাখে বা পূতে রাখে  তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান কারো জানা নেই। তবে কিছু লাশ রায়ের বাজার বদ্ধ ভুমীতে ফেলে রাখে যা  ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পরই নিকট আত্নীয় রা অনেকে রাজারবাগ মীর পূর বদ্ধভূমীতে স্বজন্ দের লাস খুজে পায়। এত নির্মম ভাবে তাদেরকে খুন করা হয় যে তাদের সজন্ রা তাদের লাশ সনাক্ত করতে পারছিলো না।

বুদ্ধিজীবিদের লাশের গায়ে ছিল ক্ষত চিহ্ন।কারো হাত পা বাধা কারো চোখ বাধা গায়ে আঘাতের চিহ্ন কারো গায়ে একাধিক গুলীর চিহ্ণ অত্যন্ত নির্মম ভাবে হত্না হরা হয়েছিলো তাদের । তাদের স্বরনে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের  শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বরণে স্মৃতিসৌধ  নির্মিত হয় মিরপূর রায়েরবাজার বদ্ধভুমিতে। এবং এই স্মৃতি সোধটি নির্মান করেন মোস্তফা হালি কুদ্দুস। 
তাই আজ ১৪ ডিসেম্বর শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করি সেই সকল সহীদ বুদ্ধিজীবী দের যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীনতা । আমার সোনার বাংলাদেশ।

*****

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *