লেখেলেখি করলে আপনার মনোযোগ শুধু মাত্র একটি বিষয়ের উপর রাখতে পারবেন এবং এতে আপনার ব্লগিং করতে অনেক শুবিধা হবে।সর্বপ্রথম আপনাকে একটি বিষয় বেছে নিতে হবে যে বিষয় টি আপনি জানেন, বোঝেন এবং যে বিষয়ের উপর আপনি নিয়োমিত লিখতে পারবেন।কারন ব্লগিং করার মূল উদ্দ্যেশই হলো ভিজিটর। আপনার লেখা পড়তে ভিজিটররা আপনার ব্লগে ভিজিট করবেন। এখন আপনার সাইটে ভিজিটর রা কেন ভিজিট করবেন। আপনার ব্লগে যদি কোন কিছু শেখার না থাকে তাহলে কেন  তারা আপনার ব্লগে আসবেন। তাই আপনার ব্লগে এমন কিছু রাখতে হবে যাজানার বা শেখার জন্য ভিজিটর রা আসবে। তাই বিষয় নির্বাচন করার সময় অবশ্যই সেই বিষয় টা বেছে নিবেন যা আপনি ভালো পারেন। যে বিষয় সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই নেই সে বিষয় নির্বাচন করবেন না কারন আপনি যদি কোন বিষয় সম্পর্কে কিছুই না জানেন সে বিষয়ে আপনি কি শেখাবেন।তবে অপেক্ষা কৃত কম প্রতিযোগীতা মূলক টপিক্স বেসে নিলে আপনার লেখা গুলো খুব অল্প সময় গুগোল এ র‍্যাংকিং করাতে পারবেন এবং অল্প সময়ে অনেক ভিজিটর পেয়ে যাবেন। 


২. বিষয় নির্বাচনের পর আপনাকে ইউনিক ডোমেইন নেম ও একটি হোস্টিং নিতে হবে। 
৩. এবার ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। ব্লগ তৈরি করার জন্য Joomla ,  Wordprers, blogspor, ইত্যাদি রয়েছে যেখান থেকে আপনি একটি হোস্টিং ক্রয় করে নিতে পারবেন এবং কোন কোডিং ছাড়াই আপনি একটি ওয়েব সাইট তোইরি করে নিতে পারবে। উল্ল্যেক্ষ যে ব্লগস্পটে আপনি একেবারেই ফ্রিতে হোস্টিং নিয়ে নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তা নিয়ে এর পরবর্তি একটি ব্লগে আমি লিখবো ইনশাল্লাহ।
৪. এবার যে বিষয় টি পছন্দ করেছেন সে বিষয় টির উপর আপনি ধারা বাহিক ভাবে লেখা পাবলিশ করতে থাকুন। ধারাবাহিক বলতে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর লেখা পাবলিশ করতে থাকুন। যদি  প্রতি দিন পারেন তো প্রতি দিন একটি করে নিয়োমিত দিন। যদি এক দিন পর পর পারেন তো এক দিন পর পর একটি লেখা দিন। যদি এক  সপ্তাহ পর পর পারেন তো এক সপ্তাহ পর পর পাবলিশ করুন। যেভাবেই লেখা দিন না কেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর নিয়োমিত ভাবে দিতে থাকুন।
৫. ১৫ থেকে ২০ টি পোস্ট হয়েগেলে গুগোল এড সেন্স এ আবেদন করে দিন। কিছু দিন পর এডসেস্নস এপ্রুভ করলে লেখার মাঝে মাঝে এড কোড বসান।এড কোড বসানোর সময় এড বসানোর সকল কৌশল ব্যবহার করবেন।
৬. ব্লগিং এর মাধ্যমে ইনকাম করতে হলে আপনাকে অবশ্যই খুব ভালো এসিও জানতে হবে। এসিও ছাড়া আপনি সার্স ইঞ্জিনে নিজের লেখাটি র‍্যাংকিং করতে পারবেন না। এসিও বলতে বোঝায় আপনি যে লাখেটি আপনার ব্লগে পাবলিশ করেছেন। সেটি যাতে গুগোলের সার্স করলে প্রথম পেজে চলে আসে। কারন দর্শক যখন গুগোলে কোন বিষয় দেখার বা ভিজিট করার জন্য সার্স দেন তখন প্রথম পেজে যে লেখা গুলো আসে কেবল ওই লেখা গুলোই দর্শক রা ভিজিট করে আর সেখানে যদি আপনার লেখাটি না আসে তাহলে আপনি ভুজিটর পাবেন না। সেজন্য ব্লগিং করে আয় করতে হলে এসিও জানা অত্যন্ত জরুরি।  মনে রাখবেন ব্লগে যত বেশি ভিজিটর আসবে আপনার ইনকাম বা লাভ তত বেশি হবে।তাই আপনাকে বিভিন্ন উপায় বের করার জন্য এই ভিজিটর আনার জন্য। আর ভিজিটর আনার সব চেয়ে ভালো উপায় হলো এসিও। সার্স ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন।
৭. সোস্যাল মিডিয়ায় ভালো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাঃ এসিওর পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়ায় ভালো কিছু নেট ওয়ার্ক থাকলে আপনি ভালো ভিজিটর পেতে পারেন। যেমন ধরুন আপনার একটি ফেজবুক পেজ বা একটি ফেজবুক গ্রুপ আছে, যেখানে অনেকগুলো ফ্যান ফলোয়ার বা গ্রুপে বন্ধু আছে ১০০০০০ এক লক্ষ আপনি কি করবে, ব্লগে সুন্দর একটি লেখা পাবলিশ করার পর লেখার লিংক টি কপি করে আপনার ঐ পেজে শেয়ার করে দিলেন তাতে কি হবে আপনার যে পেজ বা গ্রুপ যাই থাকুক ওই ১০০০০০ এক লক্ষ লোকের কাছে একটি নটিফিকেশন পৌছে যাবে। যার ফলে আপনি দেখবেন এক লক্ষ লোবের মধ্যে কম করে হলেও ২০০০০ বিশ হাজার লোক আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে। সুতরাং এরকম সোস্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আপনি ভিজিটর পেতে পারেন।
           ব্লগ থেকে আয়ের অন্যন্য মাধ্যম।          
ব্লগ থেকে আয় করার জন্য এডসেন্স ছাড়াও আরো অনেক উপায় রয়েছে। তবে একটি কথা বলে রাখি ব্লগিং এ এডসেন্সের সিপিসি ছাড়া অন্য মাধ্যমে আয় করতে চাইলে আগে আপনার ওয়েবসাইট কে  জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। জনপ্রিয় বলতে বঝানো হয়েছে নিয়োমিত প্রচুর সংখ্যক লোকের সমাগন বা ভিজিটরের সমাবেশ থাকতে হবে মানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে লোক আপনার ওয়েন্সাইট ভিজিট করবেন কমেন্টস করবেন ইত্যাদি।
 রিভিউ পোস্ট লেখার মাধ্যমে আয়।
আপনার ব্লগ যখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে যাবে তখন বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পন্যের রিভিউ করতে  চাইবে এবং আপনার ব্লগে তার পন্যের বিবরন ছবি পাবলিশ করতে চাইবে যার বিনিময়ে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরি মানে অর্থ  প্রদান করবে।এভাবে আপনি রিভিউ পোস্টের মাধ্যমে আয় করতে পারবে, তবে তার আগে আপনার ব্লগ কে অনেক অনেক  সুন্দর সুন্দর জনপ্রিয় পোস্ট দিয়ে ওয়েবসাইটকে আকর্শনীয় ও জনপ্রিয় করে তুলুন।

                ব্যানার এডের মাধ্যমে আয়।               ব্যানার এড সাধারন্ত কোন পোস্টের মত। এই ব্যানারে সাধারন্ত কোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন পন্যের বর্ণনা ইত্যাদি যা আপনার অয়েবসাইটে পোস্টের মত একটি নির্দিষ্ট যায়গায় সো করাতে হবে। যার বিনিময়ে ওই কোম্পানি আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমানে অর্থ প্রদান করে থাকে। সাধারন্ত এই অর্থের পরিমান অনেক খানি আপনার অয়েবসাইটের উপর নির্ভর করে আপনার অয়েব সাইটে কেমন ভিজিটর আসে তার উপর ভিত্তি করে অর্থের পরিমান টা নির্ধারিত হয়।                ব্যাক লিংক বিক্রি করে।                       
আপনার ব্লগ বা অয়েবসাইটের র‍্যাংক যদি গুগোল র‍্যাংকিং এ  তিন বা তার বেশি হয় তাহলে আপনি ব্যাক লিংক বিক্রি করে প্রচুর পরিমানে আয় করতে পারবেন।
          ভালো ব্লগার হতে কি কি করণীয়।            
আপনি যদি মনে করে থাকেন যে আপনি যে কোন বিষয়ের উপর একটি ব্লগ বানাবেন আর সেখানে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসনে। আর বিজ্ঞাপনে প্রচুর পরিমানে আয় হবে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। কারন একজন ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়োমিত আসবেন বা নিয়োমিত আপনার অয়েবসাইট ভিজিট করবে? কেবল এক জন ভিজিটর তখন ই আপনার অয়েবসাইটে আসবে এবং নিয়োমিত ভিজিট করনে যখন সে বুঝতে পারবে যে আপনার ব্লগ থেকে সে কিছু জানতে পারছে বা সে শিখতে পারছে। অথবা আপনার ব্লগ থেকে সে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছে যা তার প্রয়োজন। সুতরাং এখন আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আপনার কি করনীয়। সেটা হলো ভিজিটরের জন্য করনীয় করে ব্লগিং করা আর সে জন্য আপনাকে এক জন ভালো মানের ব্লগার  হতে হবে। সুতরাং এখন জানবো এক জন ভালো ব্লগার হতে কি কি করনীয়।
১. ব্লগিং এর  বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখবেন এমন একটি বিষয় নির্বাচন করতে অনলাইনে যার প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং যে স্পম্পর্কে আপনি প্রচুর পরিমানে লিখতে পারবেন।
২. নিয়োমিত ব্লগিং এর বিষয়ে অনলাইনে বিভিন্ন আর্টিকেল পড়া অন্যরা কেমন লিখেছে তার উপর পাঠক কেমন মন্তব্য করেছেন। পাঠক যে বিষয় গুলো নিয়ে সমালচনা করেছে সে গুলো নিজের ক্ষত্রে যথাসম্ভব পরিহার করা।এবং কোন কোন বিষয় সংযোজন করতে হবে তা অন্যদের লেখা পড়ে আগেই ধারনা নিয়ে তার পর লিখতে বসুন। তাদের অভিজ্ঞতা নিজের ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে।
৩.কখনো অন্য কারোর লেখা নকল করবেন না। 
৪.আপনার বিষয় গুলো নিয়ে অন্য যারা ব্লগে লেখেন তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। প্রয়োজনে আপনার লেখা তাদের ব্লগে শেয়ার করুন। তাতে ভিজিটর বাড়বে।
৫. পাঠকের মন্তব্য গঠন মূলক মন্তন্য করুন। তাদের কে কোন ভাবেই গালমন্দ বা বাজে কথা বলা যাবে না। এতে ভিজিটর হারানোর আসংখ্যায় থাকে।
৬.পোস্ট লেখার সময় অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে লিখুন।দেখবেন সে বিষয় টা লিখতে চাইছেন সেটি যাতে পাঠক বুঝতে পারে। পাঠক যদি আপনার লেখা বুঝতে না পারে তাহলে আপনার লেখা ই বৃথা হইলো। এবং ভিজিটর রা ও বিরক্ত হবে। এর ফলে আপনি ভিজিটর হারাতে থাকবেন।
৭. পাঠক আপনার কাছে নতুন কিকি বিষয় এর উপর লেখা চায় তা গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। এবং পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী লেখার চেষ্টা করুন তাতে আপনার চাহিদা ও জনপ্রিয়তা পাঠকদের মাঝে বৃদ্ধি পাবে।

         ব্লগ তৈরি করার পর কি কি করনীয়।        
ব্লগ তৈরির পর আপনার অনেক কিছুই করনীয় আছে যে কাজ গুলো আপনাকে অনেক বেশিবেশি করতে হবে। নিচে সেগুলো আলোচীত হলো।১. ব্লগ টি তৈরির সময় লক্ষ রাখবেন এটি যাতে এসিও বান্ধব হয়।
২. সাইটের ব্যাক গ্রাউন্ডে অহেতুক কোন ছবি বা সাউন্ড এড করবেন না এতে হয় কি আপনার অয়েবসাইট টি লোড নিতে অনেক সময় লেগে যাবে।
৩. লেখার কালার ও ব্যাকগ্রাউন্ড কালার এমন ভাবে সমন্নয় করুন যাতে পাঠকের আপনার লেখা পড়তে কোন অসুবিধা না হয়।
৪.ব্লগ তোইরির পর বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিট করতে হবে।
৫. প্রতি নিয়ত সাইটে ভিজিটর আনার চেষ্টা করুন।
৬. আপনার ব্লগের জন্য সোস্যান মিডিয়ায় একটি নেট ওয়ার্ক তৈরি করুন। 
৭. সাইট টি সব সময় পরিচ্ছন্ন বা আকর্শনীয় রাখার চেষ্টা করুন।
৮. এক দিনে তিন টির বেশি পোস্ট লিখবেন না। তবে আপনার ট্রাফিকের উপর ভিত্তি করে এক দিন পর পর বা সপ্তাহে এক টি বা দুটি করে ভালো ভালো কিছু পোস্ট করুন।
ধন্যবাদ এতক্ষন অনেক কষ্ট করে পোস্ট টি পড়ার জন্য। ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করুন। পরামর্শ থাকলে কমেন্টস করুন। 
                         আল্লাহ হাফেজ                           

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *